বাংলাদেশের ৬৪ জেলার নামকরণের ইতিহাস

বাংলাদেশের ৬৪ জেলার নামকরণের ইতিহাস

বাংলাদেশ (Bangladesh) ৮ টি বিভাগ (Division) এবং ৬৪ টি জেলা নিয়ে গঠিত । জেলা বাংলাদেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর। কয়েকটি উপজেলা নিয়ে একটি জেলা গঠিত হয়। প্রশাসনিকভাবে একটি জেলা একটি বিভাগের অধিক্ষেত্রভুক্ত। বর্তমানে বাংলাদেশের ৮টি বিভাগ এর অন্তর্গত ৬৪টি জেলা রয়েছে। ১৯৭১-এ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাকালে জেলার সংখ্যা ছিল ১৮। রাষ্ট্রপতি এরশাদ মহুকুমাগুলোকে জেলায় উন্নীতকরণের প্রক্রিয়া চালু করেন। ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠালগ্নে পূর্ব পাকিস্তান তথা বর্তমান বাংলাদেশের জেলার সংখ্যা ছিল ১৮ টি। ১৯৬৯-এ ময়মনসিংহ জেলার টাঙ্গাইল মহুকুমাকে একটি জেলায় উন্নীত করা হয়। স্বাধীন বাংলাদেশে সর্বপ্রথম পটুয়াখালী মহুকুমাকে একটি জেলায় উন্নীত করা হয়। প্রতিটি জেলায় বহু সরকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত থাকে। তবে জেলা প্রশাসক বা ডেপুটি কমিশনারকে জেলার প্রধান সরকারি প্রতিনিধি গণ্য করা হয়।
সধারনত প্রতিটি জেলারই রয়েছে কিছু নিজস্বতা। এবং রয়েছে তাদের নিজ নিজ জেলার নামের রহস্য, খাবার (recipe ) ও দর্শনীয় স্থান ধর্মীয় (religious) স্থান ।
কোন জেলা কি কারণে নামকরণ করা হয়েছে তা হয়তো আমাদের অনেকেরই অজানা। তাই আমাদের এবারের আয়োজন ৬৪ টি জেলার নামকরণের ইতিহাস।
বাংলাদেশে মোট বিভাগ ৭ টি। নিম্নে বিভাগ অনুযায়ী প্রত্যেক জেলার নামকরণের ইতিহাস তুলে ধরা হল।

(১) ঢাকা বিভাগ (Dhaka Division)

(২) চট্টগ্রাম বিভাগ (Chittagong Division)

(৩) খুলনা বিভাগ (Khulna Division)

(৪) রাজশাহী বিভাগ (Rajshahi Division)

(৫) বরিশাল বিভাগ (Barisal Division)

(৬) রংপুর বিভাগ (Rangpur Division)

(৭) সিলেট বিভাগ (Sylhet Division) ও

(৮) ময়মনসিংহ বিভাগ (Maymansingh Division)

(১) ঢাকা বিভাগ:- ঢাকা বিভাগে মোট ১৩ টি জেলা রয়েছে। এগুলো হলো:

১. ঢাকা, ২. ফরিদপুর, ৩. টাঙ্গাইল, ৪. গাজীপুর, ৫. গোপালগঞ্জ, ৬. কিশোরগঞ্জ, ৭. মাদারিপুর, ৮. মানিকগঞ্জ, ৯. মুন্সিগঞ্জ, ১০. নারায়ণগঞ্জ, ১১. নরসিংদী, ১২. রাজবাড়ী, ১৩. শরিয়তপুর
01 Dhaka Division-Bivag Map.jpg 

১. ঢাকা জেলা:
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা মোঘল-পূর্ব যুগে কিছু গুরুত্বধারন করলেও শহরটি ইতিহাসে প্রসিদ্ধি লাভকরে মোঘল যুগে। ঢাকা নামের উৎপত্তি সম্পর্কে স্পষ্ট করে তেমন কিছু জানা যায় না। এ সম্পর্কে প্রচলিতমতগুলোর মধ্যে কয়েকটি নিম্নরূপ:
ক) একসময় এ অঞ্চলে প্রচুর ঢাক গাছ (বুটি ফুডোসা) ছিল; খ) রাজধানী উদ্বোধনের দিনে ইসলাম খানেরনির্দেশে এখানে ঢাক অর্থাৎ ড্রাম বাজানো হয়েছিল; গ) ‘ঢাকাভাষা’ নামে একটি প্রাকৃত ভাষা এখানেপ্রচলিত ছিল; ঘ) রাজতরঙ্গিণী-তে ঢাক্কা শব্দটি ‘পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র’ হিসেবে উল্লেখিত হয়েছে অথবাএলাহাবাদ শিলালিপিতে উল্লেখিত সমুদ্রগুপ্তের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ডবাকই হলো ঢাকা।
কথিত আছে যে, সেন বংশের রাজা বল্লাল সেন বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভ্রমণকালে সন্নিহিতজঙ্গলে হিন্দু দেবী দুর্গার বিগ্রহ খুঁজে পান। দেবী দুর্গার প্রতি শ্রদ্ধাস্বরূপ রাজা বল্লাল সেন ঐ এলাকায় একটিমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। যেহেতু দেবীর বিগ্রহ ঢাকা বা গুপ্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল তাই রাজা মন্দিরেরনাম ঢাকেশ্বরী মন্দির। মন্দিরের নাম থেকেই কালক্রমে স্থানটির নাম ঢাকা হিসেবে গড়ে ওঠে।আবারঅনেক ঐতিহাসিকদের মতে, মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর যখন ঢাকাকে সুবা বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষণাকরেন, তখন সুবাদার ইসলাম খান আনন্দের বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ শহরে ‘ঢাক’ বাজানোর নির্দেশ দেন। এইঢাক বাজানোর কাহিনী লোকমুখে কিংবদন্দির রূপ ধারণ করে এবং তা থেকেই এই শহরের নাম ঢাকা হয়েযায়। এখানে উল্লেখ্য যে, ১৬১০ খ্রিষ্টাব্দে ইসলাম খান চিশতি সুবাহ বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকেঢাকায় স্থানান্তর করেন এবং সম্রাটের নামানুসারে এর নামকরণ করে জাহাঙ্গীরনগর।


 ১১. নরসিংদী জেলা:
কথিত আছে, প্রাচীনকালে এ অঞ্চলটি নরসিংহ নামক একজন রাজার শাসনাধীন ছিল। আনুমানিক পঞ্চদশশতাব্দীর প্রথম দিকে রাজা নরসিংহ প্রাচীন ব্যক্ষ্মপুত্র নদের পশ্চিম তীরে নরসিংহপুর নামে একটি ছোটনগর স্থাপন করেছিলেনঅ তাঁরই নামানুসারে নরসিংদী নামটি আবির্ভূত হয়। নরসিংহ নামের সাথে ‘দী’যুক্ত হয়ে নরসিংদী হয়েছে। নরসিংহদী শব্দের পরিবর্তিত রূপই “নরসিংদী”।

 

Comments

Popular posts from this blog

"আযান"

My Art Name#2⚡Pdf

আযান ও একামত